GI স্বীকৃতিতে পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী লাখ শিল্পে ফিরছে নতুন সম্ভাবনা



নিজেসস্ব সংবাদদাতাঃ খেরওয়াল আরিচালি টিভিঃ বালারামপুর শেলাক ক্লাস্টার শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেডের আবেদনের ভিত্তিতে ন্যাচারাল গুডস (Natural Goods) বিভাগে পুরুলিয়ার লাখ জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি অর্জন করেছে।


সম্প্রতি জেলার ঐতিহ্যবাহী লাখ পণ্য জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (GI) স্বীকৃতি পাওয়ায় পুরুলিয়ার বহু প্রাচীন লাখ শিল্পে আবারও নবজাগরণের আশা দেখা দিয়েছে। এই স্বীকৃতি পশ্চিমবঙ্গের এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে পরিচিত লাখ শিল্পকে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।


একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ লাখজাত পণ্য রপ্তানিকারক জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল পুরুলিয়া। তবে গত কয়েক দশকে উৎপাদন ও বাজারে চাহিদা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় এই শিল্প অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল।


পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এই স্বীকৃতিকে জেলার জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, জিআই স্বীকৃতি জেলার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


তিনি বলেন, "জিআই ট্যাগ পুরুলিয়ার স্থানীয় উৎপাদনকে নতুন গতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতি জেলার কারিগরদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অর্জিত দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে।"


তিনি আরও বলেন, "পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের মোট লাখ উৎপাদনের একটি বড় অংশের যোগান দেয়। এখানকার পণ্য গ্রামীণ সমবায়ের মাধ্যমে উৎপাদিত হওয়ার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বাজারেও রপ্তানি হয়। আমরা আশাবাদী, এই জিআই স্বীকৃতি সমগ্র অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"


জেলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শিল্পকে সুরক্ষা, প্রচার এবং তার স্বতন্ত্র পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যেই বালারামপুর শেলাক ক্লাস্টার শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেড জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছিল।


ঐতিহাসিকভাবে লাখ চাষ পুরুলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। লাখ হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক রজন (Resin), যা বিশেষ প্রজাতির পোকার নিঃসরণ থেকে উৎপন্ন হয়। এই রজন থেকে শেলাক (Shellac) এবং বিভিন্ন ধরনের পুঁতির মালা, চুড়ি, গয়না, শৌখিন সামগ্রী ও গৃহস্থালির নানা পণ্য তৈরি করা হয়।


জেলার বালারামপুর ও বাঘমুন্ডি ব্লক দীর্ঘদিন ধরে লাখ চাষের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে তুলিন ও ঝালদা এলাকায় গড়ে উঠেছে লাখ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প।


স্থানীয় কৃষকরা মূলত কুসুম, পলাশ ও কুল গাছে লাখ চাষ করেন। এসব গাছ থেকে সংগৃহীত উচ্চমানের লাখ দিয়ে উন্নত মানের শেলাক এবং বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন করা হয়, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সমানভাবে সমাদৃত।

Post a Comment