জাল এসটি শংসাপত্রের অভিযোগে খড়গপুর আইআইটির কর্মীকে ঘিরে বিতর্ক, চাকরি বাতিলের দাবি



খড়গপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:

জাল তফসিলি জনজাতি (এসটি) শংসাপত্র ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে খড়গপুর আইআইটির এক কর্মীকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর অভিযুক্ত যুবক দেবরাজ বিশ্বাসের এসটি শংসাপত্র বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। এর পরেই তাঁর চাকরি বাতিল এবং অপেক্ষমান তালিকায় থাকা প্রকৃত আদিবাসী প্রার্থী রাহুল মান্ডির নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


কী অভিযোগ?

অভিযোগ অনুযায়ী, নদীয়া জেলার বাসিন্দা দেবরাজ বিশ্বাস এসটি শংসাপত্রের ভিত্তিতে খড়গপুর আইআইটির জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি পান। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রকাশিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৪০টি শূন্যপদের মধ্যে এসটি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল মাত্র একটি পদ, যেখানে নিয়োগ পান দেবরাজ।

তবে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সালুয়ার বাসিন্দা রাহুল মান্ডি দেবরাজের জাতিগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, “বিশ্বাস” পদবিধারী একজন ব্যক্তি কীভাবে এসটি শংসাপত্র পেলেন, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতির নজরে আনা হয়।


তদন্তে কী উঠে এসেছে?

সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের পর গত ২৭ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেবরাজ বিশ্বাসের এসটি শংসাপত্র বাতিল করে বলে সূত্রের খবর। পরবর্তীতে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

রাজ্য সরকার সম্প্রতি ভুয়ো এসটি শংসাপত্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। জুন মাসের শুরুতেই একাধিক ব্যক্তির এসটি শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।


আদিবাসী সংগঠনের দাবি

পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতি দাবি করেছে, দেবরাজ বিশ্বাসের চাকরি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং সেই পদে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা রাহুল মান্ডিকে নিয়োগ দিতে হবে। সংগঠনের মতে, ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে সংরক্ষিত পদে চাকরি পাওয়া প্রকৃত আদিবাসী প্রার্থীদের অধিকার হরণ করার শামিল।

এছাড়াও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।



আইআইটি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

খড়গপুর আইআইটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আইনি ও প্রশাসনিকভাবে পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য

ঘটনাটি সামনে আসার পর খড়গপুর আইআইটি চত্বরে এবং আদিবাসী সংগঠনগুলির মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের মাধ্যমে সংরক্ষিত চাকরি পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে আরও তদন্তের দাবি উঠেছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন